![]() |
| নতুন ভোটার কার্ড Online Apply 2026, Form 6 Registration, Required Documents, Aadhaar Verification, e-EPIC Download এবং Status Check-এর Complete Bengali Tutorial। |
নতুন ভোটার কার্ড অনলাইনে আবেদন ২০২৬ – বাড়িতে বসেই Form 6 পূরণ করে PVC ভোটার কার্ড পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
ভারতে ১৮ বছর পূর্ণ হলেই ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার অধিকার পাওয়া যায়। এখন আর নতুন ভোটার কার্ড করার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ব্লক অফিসে ঘুরতে হয় না। Election Commission of India (ECI)-এর অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন অনুমোদিত হলে আপনি:
PVC Voter ID Card ডাকযোগে বাড়িতে পাবেন,
অনলাইন থেকে e-EPIC (Digital Voter Card) ডাউনলোড করতে পারবেন,
ভবিষ্যতে ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলেও মোবাইল নম্বরের OTP দিয়ে আবার ডাউনলোড করতে পারবেন।
এই গাইডে আমরা ধাপে ধাপে দেখব কীভাবে ২০২৬ সালে নতুন ভোটার কার্ড অনলাইনে আবেদন করবেন, কী কী ডকুমেন্ট লাগবে, কীভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন এবং Form 6 শুরু করবেন।
কারা নতুন ভোটার কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন?
অনলাইনে নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন যদি:
আপনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে থাকে, অথবা
আপনার বয়স ১৮ হতে কয়েক মাস বাকি থাকলেও ECI-এর নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখের মধ্যে ১৮ পূর্ণ হবে।
২০২৬ সালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বয়স সংক্রান্ত নিয়ম
যাদের জন্মতারিখ ১ অক্টোবর ২০০৮ বা তার আগে, তারা ২০২৬ সালের নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে ভোটার কার্ড করলে কী কী সুবিধা পাবেন?
অনলাইনে আবেদন করার প্রধান সুবিধাগুলি
বাড়িতে বসেই সম্পূর্ণ আবেদন করা যায়
মোবাইল ফোন দিয়েও আবেদন করা সম্ভব
স্ট্যাটাস অনলাইনে ট্র্যাক করা যায়
অনুমোদনের পর e-EPIC ডাউনলোড করা যায়
PVC ভোটার কার্ড ডাকযোগে বাড়িতে পৌঁছে যায়
ভবিষ্যতে OTP দিয়ে আবার ডাউনলোড করা যায়
আবেদন করার আগে যেসব ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখবেন
অনেকেই আবেদন শুরু করার পর বুঝতে পারেন যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করা নেই। তাই আগে থেকেই এগুলো প্রস্তুত রাখুন।
বাধ্যতামূলক ডকুমেন্ট
| ডকুমেন্ট | কেন লাগবে |
|---|---|
| আধার কার্ড | পরিচয় যাচাই ও eSign-এর জন্য |
| সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি | ভোটার কার্ডে ব্যবহারের জন্য |
| জন্মতারিখের প্রমাণ | বয়স যাচাইয়ের জন্য |
| ঠিকানার প্রমাণ | বর্তমান ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য |
কোন কোন জন্মতারিখের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য?
নিচের যেকোনো একটি ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায়:
জন্ম সনদ (Birth Certificate)
মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড
স্কুল সার্টিফিকেট
প্যান কার্ড
পাসপোর্ট
ড্রাইভিং লাইসেন্স
আধার কার্ড (যেখানে DOB আছে)
কোন কোন ঠিকানার প্রমাণ গ্রহণযোগ্য?
আধার কার্ড
রেশন কার্ড
ব্যাংক পাসবুক
বিদ্যুৎ বিল
গ্যাস বিল
পানীয় জলের বিল
ভাড়ার চুক্তিপত্র
পাসপোর্ট
ছবি আপলোডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম (এটি অনেকের আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ)
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিষ্কার মুখের ছবি ব্যবহার করুন।
ছবির নিয়ম
ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা (White Background) হতে হবে।
মুখ পরিষ্কার দেখা যেতে হবে।
সানগ্লাস, ক্যাপ, ফিল্টার ব্যবহার করবেন না।
খুব বেশি জুম করা ছবি ব্যবহার করবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস
অনেক সময় পোর্টালে “Human Face Not Detected” লেখা আসে। এর প্রধান কারণ:
ছবির ফাইলের নাম বাংলা বা অদ্ভুত চিহ্নে থাকে,
স্ক্রিনশট ব্যবহার করা হয়,
মুখ স্পষ্ট দেখা যায় না।
সমাধান
ছবির নাম পরিবর্তন করুন, যেমন:
photo.jpgvoter_photo.png
তারপর আবার আপলোড করুন।
কোন ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে?
নতুন ভোটার কার্ডের আবেদন করতে হবে Election Commission of India (ECI)-এর অফিসিয়াল পোর্টালে:
মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ—যেকোনো ডিভাইস থেকেই আবেদন করা যায়।
ধাপে ধাপে অনলাইনে ভোটার কার্ড আবেদন
এখন থেকে আমরা আসল আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করছি।
Step 1: ECI পোর্টালে প্রবেশ করুন
ব্রাউজারে যান
voters.eci.gov.in লিখে খুলুন
হোমপেজে গেলে Citizen Services বা Login / Sign Up অপশন দেখতে পাবেন।
Step 2: আগে অ্যাকাউন্ট থাকলে Login করুন
যদি আগে কখনও:
ভোটার সার্ভিস পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে থাকেন,
ECI NET অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন,
অন্য কোনো ভোটার পরিষেবা নিয়েছেন,
তাহলে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খোলার দরকার নেই।
লগইন করার নিয়ম
Login এ ক্লিক করুন
রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর লিখুন
ক্যাপচা কোড পূরণ করুন
Request OTP চাপুন
মোবাইলে আসা OTP লিখুন
Verify & Login এ ক্লিক করুন
এরপর সরাসরি ড্যাশবোর্ডে চলে যাবেন।
Step 3: নতুন হলে Sign Up করুন
প্রথমবার আবেদন করলে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
কী লাগবে?
একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর
(ঐচ্ছিক) ইমেইল আইডি
Step 4: মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন
Sign Up এ ক্লিক করুন
মোবাইল নম্বর লিখুন
ইমেইল থাকলে লিখুন (না থাকলে ফাঁকা রাখুন)
ক্যাপচা পূরণ করুন
Continue চাপুন
Step 5: নিজের নাম লিখুন
এখানে ইংরেজিতে নাম লিখতে হবে।
কীভাবে লিখবেন?
ধরুন নাম Md Rahim Ali
First Name:
Md RahimLast Name / Surname:
Ali
⚠️ অবশ্যই আধার কার্ডে যেমন আছে ঠিক তেমন লিখবেন।
আধারের নামের সাথে মিল থাকা কেন জরুরি?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
পরে আবেদন জমা দেওয়ার সময় Aadhaar Authentication / eSign করতে হবে।
যদি:
আধারে নাম থাকে
Suman Kumar Dasআপনি লিখেন
Suman Das
তাহলে OTP ভেরিফিকেশন ব্যর্থ হতে পারে এবং আবেদন আটকে যেতে পারে।
তাই নিয়ম হলো
আধার কার্ড হাতে নিয়ে নাম লিখুন
বানান, স্পেস, পদবী সব মিলিয়ে লিখুন
Step 6: OTP দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন
নাম লেখার পর:
Send OTP চাপুন
মোবাইলে OTP আসবে
OTP লিখুন
Verify চাপুন
ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আপনার ECI অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
Step 7: নতুন অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন
এখন আবার:
Login এ যান
মোবাইল নম্বর দিন
OTP নিন
Verify & Login করুন
তারপর ECI Dashboard খুলবে।
Step 8: “New Voter Registration (Form 6)” নির্বাচন করুন
ড্যাশবোর্ডে গেলে নিচের মতো অপশন পাবেন:
New Voter Registration (Form 6)
Correction in Voter ID
Shift to Another Constituency
Track Application Status
এখান থেকে “New Voter Registration – Fill Form 6” এ ক্লিক করুন।
Step 9: State নির্বাচন করুন
প্রথমে আপনার রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।
উদাহরণ:
West Bengal
Assam
Bihar
Odisha
Jharkhand
যে রাজ্যে ভোটার হতে চান সেটি নির্বাচন করুন।
Step 10: District নির্বাচন করুন
এরপর জেলার নাম নির্বাচন করুন।
উদাহরণ:
Kolkata
Howrah
North 24 Parganas
South 24 Parganas
Cooch Behar
Malda
Step 11: Assembly Constituency নির্বাচন করুন
এখানেই অনেকের সমস্যা হয়।
Assembly Constituency কী?
এটি আপনার বিধানসভা কেন্দ্র।
কীভাবে জানবেন?
পরিবারের কারও ভোটার কার্ডের পিছনে দেখুন:
Assembly Constituency Name
Part Number
যে এলাকায় থাকেন সেই একই Assembly নির্বাচন করুন।
যদি না জানেন?
বাবা/মা/স্বামী/স্ত্রীর ভোটার কার্ড দেখে মিলিয়ে নিন।
Step 12: Next চাপুন
State + District + Assembly নির্বাচন করার পর Next চাপুন।
এখান থেকেই Form 6-এর মূল তথ্য পূরণ শুরু হবে।
Step 13: আবেদনকারীর নাম সঠিকভাবে লিখুন
Form 6-এর এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আপনার নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে এবং সেই নাম আধার কার্ডের সঙ্গে ১০০% মিল থাকতে হবে। নামের বানান, স্পেস কিংবা পদবীতে সামান্য পার্থক্য থাকলেও পরবর্তী Aadhaar Authentication-এর সময় সমস্যা হতে পারে।
নাম লেখার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
First Name এবং Middle Name থাকলে প্রথম ঘরে লিখুন।
Last Name বা Surname আলাদা ঘরে লিখুন।
ডাকনাম বা সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করবেন না।
আধার কার্ডে যেমন বানান আছে, ঠিক তেমনটাই লিখুন।
বাংলা বানান যাচাই করুন
ইংরেজিতে নাম লেখার পর পোর্টাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলা বানান তৈরি করবে। অনেক সময় এই বাংলা বানান ভুল হতে পারে।
সেক্ষেত্রে:
মোবাইল ব্যবহার করলে বাংলা কিবোর্ড দিয়ে সংশোধন করুন।
কম্পিউটার ব্যবহার করলে বাংলা টাইপিং টুল ব্যবহার করে ঠিক করুন।
পরামর্শ: ভোটার কার্ডে ভবিষ্যতে যে বাংলা নাম থাকবে, সেটি এখান থেকেই নির্ধারিত হবে। তাই এই ধাপটি এড়িয়ে যাবেন না।
Step 14: পাসপোর্ট সাইজ ছবি আপলোড করুন
ছবি আপলোড করার সময় বেশিরভাগ আবেদনকারী ভুল করেন। অথচ এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।
ছবির নিয়ম
সাম্প্রতিক ছবি হতে হবে।
সাদা (White) ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে।
মুখ পরিষ্কার দেখা যেতে হবে।
সানগ্লাস, ক্যাপ বা অতিরিক্ত ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে না।
ভালো মানের JPG বা PNG ফাইল ব্যবহার করুন।
"Human Face Not Detected" সমস্যা কেন আসে?
অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ছবি আপলোড করার পর এই মেসেজটি দেখা যায়।
এর প্রধান কারণগুলো হলো—
ছবির রেজোলিউশন খুব কম।
মুখ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না।
ফাইলের নাম বাংলা ভাষায় রয়েছে।
Screenshot ব্যবহার করা হয়েছে।
ছবি অতিরিক্ত Crop করা হয়েছে।
এই সমস্যার সহজ সমাধান
ছবির ফাইলের নাম পরিবর্তন করে নিচের মতো রাখুন—
applicant.jpg
voterphoto.png
photo01.jpg
এরপর আবার Upload করুন।
ছবি Upload করার পরে Crop Tool ব্যবহার করে মুখ ঠিকভাবে Adjust করুন।
যদি Human Face Detected Successfully লেখা আসে, তাহলে বুঝবেন ছবি সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
Step 15: Guardian বা অভিভাবকের তথ্য যোগ করুন
এখন আবেদনকারীর ভোটার কার্ডে অভিভাবক হিসেবে কার নাম থাকবে সেটি নির্বাচন করতে হবে।
আপনি নিচের যেকোনো একজনকে নির্বাচন করতে পারবেন—
Father
Mother
Husband
Wife
Legal Guardian
কোন পরিস্থিতিতে কাকে নির্বাচন করবেন?
অবিবাহিত আবেদনকারী
সাধারণত Father's Name নির্বাচন করা হয়।
বিবাহিত মহিলা
স্বামীর নাম (Husband) ব্যবহার করা যায়।
বিশেষ পরিস্থিতি
যদি আবেদনকারী আইনগতভাবে কারও অভিভাবকত্বে থাকেন, তাহলে Legal Guardian নির্বাচন করা যাবে।
Guardian-এর নাম লেখার নিয়ম
First Name
Middle Name (থাকলে)
Last Name
সব তথ্য ইংরেজিতে লিখুন।
এরপর স্বয়ংক্রিয় বাংলা বানান আসবে।
বাংলা বানান ভুল থাকলে অবশ্যই সংশোধন করুন।
Step 16: মোবাইল নম্বর লিংক করুন
এই ধাপটি অনেকেই গুরুত্ব দেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে এটি সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
কেন মোবাইল নম্বর লিংক করা জরুরি?
মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকলে—
e-EPIC Download করা যায়।
OTP দিয়ে ভবিষ্যতে ভোটার কার্ড পুনরায় ডাউনলোড করা যায়।
আবেদন সংক্রান্ত আপডেট পাওয়া যায়।
Status Verification সহজ হয়।
কী করবেন?
Self অপশন নির্বাচন করুন।
নিজের সক্রিয় মোবাইল নম্বর লিখুন।
ইমেইল আইডি যোগ করা কি বাধ্যতামূলক?
না।
Email সম্পূর্ণ Optional।
যদি আপনার Gmail বা অন্য Email থাকে, তাহলে যোগ করতে পারেন।
না থাকলেও আবেদন করতে কোনো সমস্যা হবে না।
Step 17: Aadhaar নম্বর যোগ করুন
এখন Aadhaar সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে।
যদি Aadhaar থাকে—
Aadhaar Number অপশন নির্বাচন করুন।
১২ সংখ্যার Aadhaar Number লিখুন।
Aadhaar কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে Aadhaar ব্যবহার করে—
পরিচয় যাচাই
eSign Verification
আবেদনকারীর তথ্য মিলিয়ে দেখা
এই কাজগুলো করা হয়।
তাই Aadhaar Number ভুল লিখবেন না।
যদি Aadhaar না থাকে?
পোর্টালে "I am not able to furnish Aadhaar Number" ধরনের অপশন থাকতে পারে।
তবে বাস্তবে নতুন আবেদন দ্রুত এবং সহজে সম্পন্ন করতে Aadhaar থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি সফলভাবে আপলোড হওয়ার পরে অনেক সময় পোর্টাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে Gender শনাক্ত করে।
তবুও আবেদন সাবমিট করার আগে অবশ্যই দেখে নিন।
নির্বাচনের অপশন—
Male
Female
Third Gender
ভুল Gender নির্বাচন করলে পরবর্তীতে Correction-এর জন্য আলাদা আবেদন করতে হতে পারে।
Step 19: জন্মতারিখ (Date of Birth) লিখুন
এখন আবেদনকারীর জন্মতারিখ নির্বাচন করতে হবে।
Calendar ব্যবহার করে—
দিন
মাস
বছর
নির্বাচন করুন।
মনে রাখবেন
জন্মতারিখ অবশ্যই সেই ডকুমেন্টের সঙ্গে মিলতে হবে, যেটি আপনি আপলোড করবেন।
Step 20: জন্মতারিখের প্রমাণ (Date of Birth Proof) আপলোড করুন
এখন DOB Proof নির্বাচন করতে হবে।
নিচের যেকোনো একটি ব্যবহার করা যায়—
গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট
Birth Certificate
Aadhaar Card
PAN Card
Passport
Driving Licence
মাধ্যমিক Admit Card
মাধ্যমিক Certificate
উচ্চ মাধ্যমিক Certificate
School Certificate
অন্য কোনো ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যাবে?
হ্যাঁ।
যদি উপরের কোনোটিই না থাকে, তাহলে এমন কোনো সরকারি ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায় যেখানে জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সেক্ষেত্রে "Any Other Document" নির্বাচন করে ডকুমেন্টের নাম লিখে Upload করুন।
ডকুমেন্ট আপলোড করার আগে যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন
ডকুমেন্টটি অবশ্যই—
পরিষ্কার স্ক্যান করা হতে হবে।
সব লেখা পড়া যায় এমন হতে হবে।
JPG, PNG বা PDF ফরম্যাটে হতে হবে।
নির্ধারিত File Size-এর মধ্যে থাকতে হবে।
Upload করার পরে Preview দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে সঠিক ডকুমেন্টই আপলোড হয়েছে।
এই ধাপে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো হয়
অনেক আবেদনকারী নিচের ভুলগুলোর কারণে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা আবেদন বাতিলের মুখে পড়েন—
❌ আধারের সঙ্গে নামের বানান না মিলানো
Aadhaar Authentication ব্যর্থ হতে পারে।
❌ বাংলা বানান যাচাই না করা
ভোটার কার্ডে ভুল বাংলা নাম ছাপা হতে পারে।
❌ অস্পষ্ট ছবি আপলোড করা
"Human Face Not Detected" দেখাতে পারে।
❌ ভুল জন্মতারিখ লেখা
DOB Proof-এর সঙ্গে তথ্য না মিললে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
❌ অস্পষ্ট বা কাটা ডকুমেন্ট আপলোড করা
Verification-এর সময় আবেদন Pending বা Reject হতে পারে।
Step 21: বর্তমান ঠিকানা (Present Address) সঠিকভাবে পূরণ করুন
এখন Form 6-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমান ঠিকানা (Present Address) পূরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন আপনার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই ঠিকানার ভিত্তিতেই যাচাই করবে। তাই এখানে দেওয়া প্রতিটি তথ্য সঠিক এবং ডকুমেন্ট অনুযায়ী হওয়া জরুরি।
যে তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে
House Number / Building Number
Street / Road Name
Locality / Area / Mohalla
Village / Town / City
Post Office
PIN Code
Tehsil / Taluk / Block
District
State
House Number কোথা থেকে জানবেন?
অনেকেই House Number নিয়ে বিভ্রান্ত হন।
যদি আপনার পরিবারের কারও ভোটার কার্ড আগে থেকেই থাকে, তাহলে নতুন ভোটার তালিকা (Electoral Roll) অথবা পরিবারের সদস্যের ভোটার তথ্য দেখে একই House Number ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষ করে—
বাবা
মা
স্বামী
স্ত্রী
যার ভোটার তথ্য একই ঠিকানায় রয়েছে, তার House Number মিলিয়ে নিলে ভবিষ্যতে যাচাই সহজ হয়।
বাংলা ঠিকানা অবশ্যই যাচাই করুন
ইংরেজিতে ঠিকানা লেখার পরে পোর্টাল বাংলা ঠিকানাও তৈরি করবে।
যদি বাংলা বানানে ভুল থাকে তাহলে কিবোর্ড ব্যবহার করে ঠিক করে নিন।
এটি পরবর্তীতে ভোটার কার্ডে এবং ভোটার তালিকায় ব্যবহৃত হতে পারে।
Step 22: Address Proof আপলোড করুন
বর্তমান ঠিকানা দেওয়ার পর সেই ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে একটি ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে।
কোন কোন Address Proof গ্রহণযোগ্য?
নিচের যেকোনো একটি ডকুমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন—
Aadhaar Card
Ration Card
Bank Passbook
Electricity Bill
Water Bill
Gas Connection Bill
Registered Rent Agreement
Indian Passport
যদি বিবাহের পর নতুন ঠিকানায় থাকেন
এটি অনেক মহিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন—
বিয়ের আগে বাবার বাড়ির ঠিকানা ছিল।
বর্তমানে স্বামীর বাড়িতে থাকছেন।
সেক্ষেত্রে Address Proof অবশ্যই বর্তমান ঠিকানার হতে হবে।
যদি এখনো আধার কার্ডে পুরোনো ঠিকানা থাকে, তাহলে প্রথমে আধারের ঠিকানা পরিবর্তন করে নেওয়া ভালো। এরপর সেই নতুন আধার কার্ড Address Proof হিসেবে ব্যবহার করলে আবেদন যাচাই আরও সহজ হয়।
Address Proof আপলোড করার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ডকুমেন্ট পরিষ্কার স্ক্যান করা হতে হবে।
JPG, PNG অথবা PDF ফরম্যাট ব্যবহার করুন।
নির্ধারিত File Size-এর মধ্যে রাখুন।
Upload করার পর Preview দেখে নিশ্চিত হন।
Step 23: Disability Section
এই অংশটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
যদি আবেদনকারী কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার অধিকারী হন, তাহলে—
Disability Type নির্বাচন করুন।
Percentage উল্লেখ করুন।
প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট Certificate Upload করুন।
যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে এই অংশ ফাঁকা রেখে Next করুন।
Step 24: পরিবারের ভোটার তথ্য (Family Voter Details)
এখন নির্বাচন কমিশন জানতে চাইবে একই ঠিকানায় পরিবারের কোনো সদস্য আগে থেকেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন কি না।
যদি থাকেন তাহলে—
Relation নির্বাচন করুন।
তাঁর সম্পূর্ণ নাম লিখুন।
তাঁর EPIC Number (Voter ID Number) লিখুন।
Relation হিসেবে কী নির্বাচন করবেন?
পরিস্থিতি অনুযায়ী—
Father
Mother
Husband
Wife
Legal Guardian
নির্বাচন করুন।
EPIC Number না জানলে কী করবেন?
যদি পরিবারের সদস্যের ভোটার নম্বর জানা না থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে এই অংশটি বাধ্যতামূলক নয়।
তবে EPIC Number দিলে আবেদন যাচাই দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
Step 25: Declaration Form পূরণ করুন
এখন Form 6-এর Declaration অংশে যেতে হবে।
এখানে আবেদনকারীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।
Place of Birth লিখুন
এখানে অনেকেই ভুল করেন।
এখানে বর্তমান ঠিকানা নয়, জন্মস্থান লিখতে হবে।
যেমন—
Village
Town
City
যেখানে জন্ম হয়েছে সেই স্থানের নাম লিখুন।
এরপর—
District
State
নির্বাচন করুন।
বর্তমান ঠিকানায় কতদিন ধরে থাকছেন?
এখানে বর্তমান ঠিকানায় কত বছর বা কত মাস ধরে বসবাস করছেন তা উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ—
জন্ম থেকেই থাকলে জন্ম সাল অনুযায়ী।
বিয়ের পরে নতুন ঠিকানায় গেলে বিয়ের মাস ও বছর অনুযায়ী।
Place of Application
আপনি যেখান থেকে আবেদন করছেন সেই শহর বা গ্রামের নাম লিখুন।
তারিখ সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
Step 26: OTP Verification
Declaration সম্পূর্ণ করার পরে Captcha পূরণ করুন।
তারপর—
Send OTP
মোবাইলে OTP আসবে
OTP লিখুন
Preview & Submit নির্বাচন করুন।
Step 27: আবেদন Preview ভালোভাবে যাচাই করুন
Submit করার আগে পুরো আবেদন একবার ভালোভাবে দেখে নিন।
বিশেষভাবে যাচাই করুন—
নাম
বাংলা বানান
জন্মতারিখ
ছবি
ঠিকানা
Guardian-এর নাম
Aadhaar Number
আপলোড করা ডকুমেন্ট
একবার আবেদন জমা হয়ে গেলে ভুল তথ্য সংশোধন করতে আবার আলাদা আবেদন করতে হতে পারে।
Step 28: Aadhaar eSign সম্পন্ন করুন
Preview সঠিক থাকলে—
eSign & Submit নির্বাচন করুন।
এরপর—
Aadhaar Number লিখুন।
Get OTP নির্বাচন করুন।
Aadhaar-এর সঙ্গে যুক্ত মোবাইলে OTP আসবে।
OTP লিখে Submit করুন।
OTP সফলভাবে যাচাই হলে আবেদনটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা হয়ে যাবে।
Step 29: Acknowledgement Slip ডাউনলোড করুন
আবেদন সফলভাবে জমা হলে একটি Acknowledgement Slip তৈরি হবে।
এটি অবশ্যই Download করে সংরক্ষণ করুন।
এই Slip-এ থাকবে—
SRN (Service Request Number)
Application Number
Submission Details
ভবিষ্যতে Status Check করার জন্য SRN অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Step 30: Application Status কীভাবে দেখবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পরে Dashboard-এ ফিরে যান।
তারপর—
Track Application Status
অপশন নির্বাচন করুন।
এখন SRN Number লিখে Submit করুন।
Status-এ কী কী ধাপ দেখা যায়?
সাধারণত আবেদন নিচের ধাপগুলো অতিক্রম করে—
Submitted
BLO Assignment
Field Verification
Verification Completed
Approved / Rejected
যদি আবেদন অনুমোদিত হয়, তাহলে নতুন EPIC Number তৈরি হবে।
Step 31: e-EPIC (Digital Voter Card) Download করুন
আবেদন Approved হওয়ার পরে Dashboard-এ গিয়ে e-EPIC Download অপশন নির্বাচন করুন।
তারপর—
EPIC Number অথবা SRN Number লিখুন।
State নির্বাচন করুন।
Search করুন।
মোবাইলে OTP নিন।
OTP Verify করুন।
PDF আকারে e-EPIC Download করুন।
এই ডিজিটাল ভোটার কার্ড বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়।
Step 32: PVC ভোটার কার্ড কবে পাবেন?
আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন আপনার ঠিকানায় PVC Voter ID Card ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়।
তবে এটি পৌঁছাতে এলাকার উপর নির্ভর করে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
অনেকেই যে বিষয়টি ভুলে যান
অনেক ক্ষেত্রে শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই কাজ শেষ হয় না।
BLO (Booth Level Officer) বা স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন যাচাই করতে পারেন।
তাই—
Acknowledgement Slip সংরক্ষণ করুন।
প্রয়োজন হলে প্রিন্ট কপি রাখুন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন।
BLO যোগাযোগ করলে দ্রুত সহযোগিতা করুন।
কিছু এলাকায় ডকুমেন্ট সরাসরি জমা দিতে বলা হতে পারে। তাই আবেদন করার পর আপনার এলাকার BLO বা নির্বাচনী নিবন্ধন অফিস (ERO)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আবেদন দ্রুত অনুমোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
✔️ আধারের সঙ্গে নামের বানান হুবহু মিল রাখুন।
✔️ পরিষ্কার White Background-এর ছবি ব্যবহার করুন।
✔️ জন্মতারিখ ও ডকুমেন্টের তথ্য একই রাখুন।
✔️ বর্তমান ঠিকানার সঠিক Address Proof আপলোড করুন।
✔️ নিজের সক্রিয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।
✔️ বাংলা বানান প্রতিটি ধাপে যাচাই করুন।
✔️ SRN Number অবশ্যই সংরক্ষণ করুন।
✔️ আবেদন Approved হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়মিত Status Check করুন।
✔️ BLO Verification-এর ফোন বা পরিদর্শন এড়িয়ে যাবেন না।
অনেক আবেদনকারী নিচের ভুলগুলোর কারণে আবেদন Pending বা Rejected হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন—
আধারের সঙ্গে নাম না মেলানো।
অস্পষ্ট বা ভুল ছবি আপলোড করা।
ভুল জন্মতারিখ উল্লেখ করা।
পুরোনো ঠিকানার ডকুমেন্ট আপলোড করা।
মোবাইল নম্বর লিংক না করা।
বাংলা বানান যাচাই না করা।
অস্পষ্ট বা কাটা স্ক্যান করা ডকুমেন্ট আপলোড করা।
SRN Number সংরক্ষণ না করা।
BLO-এর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সাড়া না দেওয়া।
এই বিষয়গুলো শুরু থেকেই ঠিকভাবে অনুসরণ করলে আপনার নতুন ভোটার কার্ড আবেদন দ্রুত এবং ঝামেলামুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।


